|
নতুন ভিসা নিয়ম নিয়ে জাপানের বিদেশী ব্যবসায়িক মালিকরা উদ্বিগ্ন
কমিউনিটি রিপোর্ট ।।
ব্যবসা ব্যবস্থাপকের
আবাসিক মর্যাদার প্রয়োজনীয়তার পরিবর্তনগুলি জাপানে বিদেশী ব্যবসার
মালিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ কেউ এই
পরিবর্তনের কারণে জাপানে বসবাস চালিয়ে যেতে পারবেন কিনা তা নিয়ে চিন্তিত।
জাপানে বিদেশীদের
সংখ্যা গত জুন পর্যন্ত রেকর্ড ৩.৯৫ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসা ব্যপস্থাপক
ভিসার নিয়ম চালু করা হয়েছিলো দেশে বিদেশী উদ্যোগতাদের সংখ্যা বাড়ানোর
উদ্দেশ্যে। ২০১৫ সালে যখন এই ভিসায় থাকা বিদেশীদের সংখ্যা ছিলো ১৮,১০৯ জন
সেখানে ২০২৫ সালে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৪৪,৭৬০ এ, অর্থাৎ ১০ বছরে প্রায় ২.৫ গুন
বেড়েছে।
তবে এই ভিসার অপব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে বলে এক
ধরণের উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে সহজে ভিসা প্রাপ্তির একটি উপায়
হিসেবে ব্যবসা ব্যবস্থাপক ভিসাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এরফলে গত অক্টোবরে
জাপান সরকার নিয়মকানুনের পরিবর্তন এনেছে। যার মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম
প্রয়োজনীয় মূলধন ৬ গুন বৃদ্ধি।
ইবারাকি ইমিগ্রেশনের
কর্মকর্তারা সম্প্রতি এ রকম একটি কোম্পানি অফিস পরিদর্শন করতে যান কিন্তু
বাস্তবে সেই কোম্পানি অফিসটির কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। অনেক ক্ষেত্রেই
নামমাত্র কোম্পানি খুলে ভিসা তোলা হয় কিন্তু বাস্তবে কোন বাণিজ্যিক
কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়না।
সমস্যা যুক্ত ৩০০টি
প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অনুসন্ধান চালানো হয় যাদের কাগজপত্রে সমস্যা রয়েছে। এসব
প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯০ শতাংশের ক্ষেত্রেই বিচ্যুতি পাওয়া গেছে, যার মধ্যে
রয়েছে এগুলি বাস্তবে কোনও ব্যবসা করছে না। তদন্তকারী একজন ইমিগ্রেশন
কর্মকর্তা জানিছেন তারা সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে কাউকে সেখানে কাজ করতে
দেখেননি। তাদেরকে ফোন করা হলেও কেউ ধরেনি।
অনুমান করা হয় যে ভিসার
শর্তাবলী অতিরিক্তমাত্রায় শিথিল রয়েছে। এই ভিসাকে পরিবারের সদস্যদেরকেও
একসঙ্গে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। চীনা নাগরিকদের অনেকেই এই সুযোগকে কাজে
লাগিয়ে জাপানে মাইগ্রেশনের পথ করছেন।
ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস
এজেন্সির রেসিডেন্সি ম্যনেজমেন্ট ডিভিশনের পরিচালক ইতো জুনজি বলেন, এই ভিসা
দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যাতে তা জাপানের জন্যে সহায়ক হয় কিন্তু সেটি না
ঘটলে তা অগ্রহণযোগ্য এবং আবাসিক মর্যাদা নীতির পরিপন্থী।
নতুন প্রবর্তিত
নিয়মগুলির মধ্যে রয়েছে পূর্বের ৫০ লাখ ইয়েন প্রয়োজনীয় মূলধনের পরিবর্তে এখন
থেকে ৩ কোটি ইয়েনের প্রয়োজন পড়বে। আগে কর্মসংস্থান নিয়ে তেমন কোন নিয়মের
বাধ্যবাধকতা না থাকলেও এখন থেকে অন্ততঃ এক্জন জাপানি নাগরিক কিম্বা স্থায়ী
বাসিন্দার মর্যাদা রয়েছে এমন কাউকে বা তাদের স্বামী/স্ত্রীকে পূর্ণকালীন
সময়ের জন্যে নিয়োগ দিতে হবে। এছাড়াও এই ভিসার আবেদনকারী অথবা পূর্ণকালীন
সময়ের জন্যে কাজ করা ব্যক্তির জাপানি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে।
এই পরিবর্তনটি
কেবলমাত্র নতুন আবেদনকারীদের জন্যেই নয়, পুরোনো যারা এই ভিসায় রয়েছেন তাদের
জন্যেও অনুরূপ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। গত অক্টোবর থেকে চালু হওয়া এই নিয়মের তিন
বছরের মধ্যে শর্তাবলী পূরণ করতে হবে।
তবে অনেক বিদেশী
বিনিয়োগকারীরা নতুন নিয়মের কারণে বিপদে পড়েছেন এবং সাহায্যের জন্যে বিভিন্ন
লিগ্যাল অফিসে ধর্ণা দিচ্ছেন। তারা ব্যবসা ব্যবস্থাপক ভিসার জন্যে তাদের
পরামর্শ নিচ্ছেন। ওসাকায় বসবাসকারী এক নারী গত ৫ বছর ধরে রেস্তোরাঁ চালিয়ে
যাচ্ছেন - নতুন নিয়মের কারণে তিনি খুবই উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন এটা খুবই
বেদনাদায়ক যে আইনের কিছু পরিবর্তনের কারণে আমি আর জাপানে থাকতে পারবো না।
অপর একটি ট্রেডিং কোম্পানির মালিক জানালেন ভিসার নতুন নিয়মটি তার সন্তানের
উপর প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন আমার সন্তান এখন জাপানি সরকারি বিদ্যালয়ে
পড়াশোনা করছে এবং আমার ব্যবসা চালিয়ে যেতে আমাকে প্রচুর কষ্ট করতে হচ্ছে।
ওসাকা ইন্টারন্যশনাল লিগাল অফিসের লি হুইসা
জানালেন, এ রকম পরিস্থিতিতে কোনো কোনো ব্যবসা আর টিকে থাকতে পারবে না।
অন্যরা ভাবছেন তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে নিজেদের দেশে ফিরে যেতে। লিগাল
অফিসটির একজন বলেছেন অনেক বিদেশীরাই কোম্পানিতে কর্মসংস্থানের নতুন নিয়ম
নিয়ে উদ্বিগ্ন।
চীনা নারী মার শিয়াও চিন দুই বছর আগে ব্যবসা
ব্যবস্থাপক ভিসা তুলেছেন। তিনি টোকিওতে দোকান সাজানোর জিনিসের একটি শপ
দিয়েছেন। জাপানের বিভিন্নস্থান থেকে তিনি পণ্য কিনে বিক্রি করেন এমনকি
বিদেশেও পাঠান। বছরে তিনি প্রায় একলাখ মার্কিন ডলার আয় করে থাকেন। তিনি এখন
কাকে নিয়োগ দেবেন এবং মূলধনকে প্রয়োজনীয় উচ্চতায় কীভাবে নিতে পারেন তা ভেবে
উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, একজন চীনা নাগরিক হয়ে জাপানি কাউকে খুঁজে পাওয়া জটিল।
মূলধন বাড়ার সাথে সাথে পেনশন ও বীমার টাকাও এর সাথে যুক্ত হচ্ছে। আমি
জাপানে বাকী দিনগুলি পার করতে চাই।
একজন আন্তর্জাতিক শ্রম
বিশেষজ্ঞ মাৎসুশিতা নামিকো বলেন সরকারকে অবশ্যই বিদেশী বিনিয়োগ আইনটি
সুবিন্যস্ত করতে হবে। নিয়মগুলিকে দীর্ঘকালীন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রস্তুত
করতে হবে। তরুণ ট্যালেন্টরা যেন অন্য কোনও দেশে না গিয়ে জাপানেই ব্যবসা
করতে উদ্যোগী হয় সেই বিবেচনাটি মাথায় রাখা উচিত। আমার মনে হয় এখন ভাববার
সময় এসেছে যে আমরা বাস্তবে জাপানে কি চাই। ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গী থেকে বিষয়গুলি
বিবেচনা ও আলোচনা করা উচিত।
বিদেশীরা যখন এইসব
সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন তখন লিগাল অফিসগুলি তাদের সমাধানে সহায়তা
করছেন,তারা চেষ্টা করছেন কীভাবে এসব প্রতিষ্ঠানে জাপানি নাগরিক নিয়োগ দেওয়া
যেতে পারে। এখন দেখার বিষয় নতুন নিয়ম জাপানের জন্যে সত্যিই কোনও ভালো কিছু
বয়ে আনতে পারে কিনা।
WARNING:
Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content
is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to
legal action.
[প্রথমপাতা]
|