|
স্থায়ী বসবাসের জন্য কঠোরতর শর্তাবলী বিদেশিদের নিরাপত্তাবোধ কেড়ে নেয়ঃ
নির্দেশিকা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে এনপিও
কমিউনিটি রিপোর্ট ।।
জাপানে বিদেশি
নাগরিকদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন এজেন্সির
প্রস্তাবিত কঠোরতর নির্দেশিকা ও খসড়া সংশোধনী নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ
করেছে বিভিন্ন অলাভজনক সংস্থা (NPO) ও মানবাধিকার কর্মীরা।
তাদের মতে, এই নতুন শর্তাবলী জাপানে দীর্ঘকাল
ধরে বসবাসরত এবং ভবিষ্যতে আসতে ইচ্ছুক বিদেশিদের মৌলিক নিরাপত্তাবোধ ও
কাজের অনুপ্রেরণা মারাত্মকভাবে কেড়ে নিচ্ছে।
উদ্বেগের মূল
কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে -
আর্থিক বৈষম্য: নতুন
নিয়মে আবেদনকারীর পারিবারিক আয় জাপানিজ পরিবারগুলোর গড় আয়ের সমান বা বেশি
হওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এনপিওগুলোর মতে, অনেক জাপানি নাগরিকও কম
বেতনের খাতে কাজ করেন। ফলে এই উচ্চ আয়ের শর্তটি বিদেশি শ্রমিকদের জন্য চরম
বৈষম্যমূলক এবং অনেক যোগ্য আবেদনকারীকেও স্থায়ী অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে।
পেনশন ও ট্যাক্সের
কঠোরতা: দীর্ঘ ৩০ বছরের ভবিষ্যৎ পাবলিক পেনশন নিশ্চিত করার সক্ষমতা প্রমাণ
করতে হবে। তাছাড়া কর বা সামাজিক বীমা পরিশোধে সামান্য দেরি বা অনিচ্ছাকৃত
কোনো গাফিলতি হলেও স্থায়ী বাসিন্দা মর্যাদা বাতিল বা আবেদন প্রত্যাখ্যানের
ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ভাষাগত ও সামাজিক চাপ: জাপানি ভাষায় নির্দিষ্ট
স্তরের দক্ষতা এবং দেশের আইন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে কঠোর পরীক্ষার বিধান রাখা
হচ্ছে।
আবেদনের খরচ বৃদ্ধি: আবেদন ফি প্রায় ২০ গুণ
বাড়িয়ে ১ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ ইয়েন পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা
নিম্ন আয়ের কর্মীদের জন্য বড় আর্থিক বোঝা।
বিভিন্ন অভিবাসী সহায়তা
সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা এই খসড়া নির্দেশিকাটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার জোর
আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রধান যুক্তিগুলো হলো এটি জাপানে ইতিমধ্যে
বসবাসরত বহু মানুষের ভবিষ্যৎ আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং মানসিক নিরাপত্তাবোধকে
ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে।
জাপানের শ্রমবাজার যখন
মারাত্মক কর্মী সংকটে ভুগছে, তখন এই "জেনোফোবিক" (বিদেশি-বিদ্বেষী) বা কঠোর
নীতি নতুন দক্ষ কর্মী আসতে নিরুৎসাহিত করবে। ফলে কর্মীরা দক্ষিণ কোরিয়া বা
তাইওয়ানের মতো বিকল্প দেশ বেছে নিতে পারেন।
জাপানের ইমিগ্রেশন
সার্ভিসেস এজেন্সি গত ৪ আগস্ট থেকে ১ মাসের জন্য এই প্রস্তাবের ওপর
জনসাধারণের মতামত আহ্বান করেছে। খসড়া অনুযায়ী, আয়ের নতুন মানদণ্ডটি
পূর্ববর্তী আবেদনগুলোর ওপরও ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে,
যা নিয়ে প্রবাসী সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ
বিরাজ করছে।
WARNING:
Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content
is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to
legal action.
[প্রথমপাতা]
|