|
New Page 1
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহ মানবাধিকার সংগঠনগুলো জাপানে বিদেশিদের প্রতি
বৈষম্য বিরোধী আইন প্রণয়ন করার দাবি জানিয়েছে
কমিউনিটি রিপোর্ট ।।
জাপানে বিদেশিদের প্রতি
বৈষম্য বা জেনোফোবিয়া একটি চলমান এবং জটিল সামাজিক সমস্যা, যা সাম্প্রতিক
বছরগুলোতে দেশটির জনসংখ্যা হ্রাস এবং বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা রেকর্ড
বৃদ্ধির সাথে সাথে আরও বেশি আলোচিত হচ্ছে।
জাপানের অভিবাসন
পরিষেবা সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা
রেকর্ড ৪.১২ মিলিয়নে পৌঁছেছে। তবে জনসংখ্যা ও শ্রম ঘাটতি মেটাতে বিদেশিদের
প্রয়োজনীয়তা বাড়লেও, তাদের প্রতি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য
পুরোপুরি দূর হয়নি।
জাপানে বিদেশিরা মূলত
বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যের মুখোমুখি হন, যেমন-
বিদেশিদের জন্য জাপানে
অ্যাপার্টমেন্ট বা বাসা ভাড়া নেওয়া অন্যতম বড় একটি চ্যালেঞ্জ। অনেক
বাড়িওয়ালা বা রিয়েল এস্টেট এজেন্ট সরাসরি জানিয়ে দেন যে তারা বিদেশিদের
কাছে বাসা ভাড়া দেবেন না। ভাষা বা সংস্কৃতির অমিল এবং নিয়ম না মানার
আশঙ্কায় এই বৈষম্য করা হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিদেশি নাম ব্যবহার করলে
আবাসন আবেদনগুলোতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা জাপানি নামের তুলনায় অনেক
কমে যায়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ এবং ‘রেশিয়াল প্রোফাইলিং’-
জাপানি পুলিশ রাস্তায় বিদেশিদের বা ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের বারবার
থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার ঘটনা (রেশিয়াল প্রোফাইলিং) সাম্প্রতিক সময়ে
ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে,
জাপানে বসবাসরত প্রায় ৭০% বিদেশি নাগরিক গত ৫ বছরে অন্তত একবার পুলিশি
জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন, যা জাপানি নাগরিকদের তুলনায় প্রায় ৬ গুণ
বেশি। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে কিছু বিদেশি বাসিন্দা আদালতের দ্বারস্থও
হয়েছেন।
প্রযুক্তিগত ইন্টার্ন এবং অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে
যারা জাপানে যান, তারা অনেক সময় কম মজুরি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং বৈষম্যমূলক
আচরণের শিকার হন। কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে বিদেশি কর্মীদের
পাসপোর্ট আটকে রাখার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া উচ্চ
দক্ষতা সম্পন্ন বিদেশিরাও অনেক সময় জাপানি ভাষা ও করপোরেট সংস্কৃতির
কড়াকড়ির কারণে প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক দূরত্বের শিকার হন।
জাপানে মুসলিম এবং
কুর্দিশসহ কিছু নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের
বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বাস্তব জীবনে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য
(Hate Speech) ও বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কট্টরপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর (যেমন-
সানসেইতো) "জাপানিজ ফার্স্ট" বা অভিবাসন-বিরোধী প্রচারণার কারণে সাধারণ
মানুষের মধ্যেও বিদেশিদের প্রতি সন্দেহ প্রবণতা বাড়ছে।
আইনি কাঠামোর
অভাবজাপানের সংবিধানে (অনুচ্ছেদ ১৪) জাতি ও বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ
করা হলেও, দেশটিতে জাতিগত বা ধর্মীয় বৈষম্য সরাসরি প্রতিরোধ করার জন্য কোনো
ব্যাপক ও কার্যকর দেওয়ানি আইন নেই।
এছাড়া মানবাধিকার
লঙ্ঘনের ঘটনা তদারকি করার জন্য কোনো স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার সংস্থাও নেই।
জাপান সরকার সাম্প্রতিক
সময়ে অনলাইন হেট স্পিচ নিয়ন্ত্রণে জরিপ পরিচালনা এবং বিদেশি বাসিন্দাদের
সামাজিক অন্তর্ভুক্তির জন্য কিছু পদক্ষেপ নিলেও, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহ
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো একটি পূর্ণাঙ্গ বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়ন করার
দাবি জানিয়েছে।
WARNING:
Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content
is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to
legal action.
[প্রথমপাতা]
|