প্রথমপাতা  |  প্রকাশের তারিখঃ 日曜日, 7月 12, 2026 16:27 |

 

অর্ধেকেরও বেশি জাপানি বিদেশি শ্রমিক গ্রহণের বিরোধিতা করেছেন

 

 

কমিউনিটি রিপোর্ট ।।

স্ট্যানফোর্ড জাপান ব্যারোমিটার (SJB)-এর একটি নতুন জরিপ থেকে জানা যায় যে, জাপানে অভিবাসনের বিষয়ে জনমত উল্লেখযোগ্যভাবে সতর্ক হয়ে উঠেছে; বিদেশি কর্মী গ্রহণের বিরোধিতা ২০২২-২০২৩ সালের ৩৫-৩৬% থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ৫৩%-এর বেশি হয়েছে।

ফলাফলগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, যদিও অনেক জাপানি নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে অভিবাসনকে সমর্থন করেন, তবুও এ বিষয়ে জনসমর্থন ক্রমশ সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।

জরিপ অনুযায়ী, পেশাগত দক্ষতা এবং জাপানি ভাষার সক্ষমতা—এই দুটি বিষয় জনমত গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উত্তরদাতারা কম দক্ষ কর্মীদের তুলনায় উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবী—যেমন চিকিৎসক, আইটি প্রকৌশলী এবং গবেষক বিজ্ঞানীদের—অধিক পছন্দ করছেন। জাপানি ভাষায় সাবলীলতাকে জনসমর্থন পাওয়ার অন্যতম প্রধান সূচক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা স্থানীয় সমাজে মিশে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভাষার গুরুত্বকে তুলে ধরে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, আবেদনকারীর দেশ বা উৎসস্থল তাদের সম্পর্কে জনমতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা অভিবাসীরা সর্বোচ্চ সমর্থন পেয়েছেন; এছাড়া ভিয়েতনাম, ভারত, তুরস্ক ও ব্রাজিল থেকে আসা আবেদনকারীদেরও তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে। এর বিপরীতে, চীন থেকে আসা আবেদনকারীরা ধারাবাহিকভাবে সবচেয়ে কম সমর্থন পেয়েছেন—এমনকি যখন তাদের যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং জাপানি ভাষার দক্ষতা অন্যদের মতোই ছিল। গবেষকদের মতে, দক্ষতা বা সমাজে মিশে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে ধারণার চেয়ে ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগের কারণেই এই পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জনগণের সামনে অভিবাসনকে কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা তাদের মনোভাবের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। যখন অভিবাসনকে জাপানের অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং শ্রমশক্তির ঘাটতি পূরণের উপায় হিসেবে তুলে ধরা হয়, তখন জনসমর্থন বৃদ্ধি পায়। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি বা সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জের ওপর জোর দেওয়া বক্তব্যগুলো সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। জরিপে আরও দেখা গেছে যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাপানের সাধারণ নির্বাচনের পর এই নেতিবাচক বার্তাগুলো আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে জনগণ অভিবাসন-বিরোধী প্রচারণার প্রতি ক্রমশ বেশি সাড়া দিচ্ছে।

অভিবাসন-বিরোধী মনোভাবের এই তীব্র বৃদ্ধি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন জাপানকে একটি কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। দেশটি দ্রুত বয়স্ক হতে থাকা জনসংখ্যা এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্রমশক্তির ঘাটতি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, যার ফলে অনেক শিল্পখাতে বিদেশি কর্মীর প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। একই সাথে, অভিবাসন একটি অত্যন্ত বিতর্কিত রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে; জাতীয় পরিচিতি, সামাজিক সংহতি এবং জননিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ জনসাধারণের আলোচনায় বড় ভূমিকা রাখছে।

সামগ্রিকভাবে, স্ট্যানফোর্ড জাপান ব্যারোমিটার এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, অভিবাসনের বিষয়ে জাপানি জনমত পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। বরং, এই মতামত এখন অনেক বেশি বাছাইমূলক এবং শর্তনির্ভর হয়ে উঠেছে। জাপানি ভাষা জানা অত্যন্ত দক্ষ অভিবাসীদের গ্রহণ করার বিষয়ে সাধারণ মানুষের মনোভাব এখনও তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক; তবে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সাথে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আবেদনকারীদের প্রতি তারা ক্রমশ সতর্ক হয়ে উঠছে এবং নিরাপত্তা বা সাংস্কৃতিক ঝুঁকির দৃষ্টিকোণ থেকে অভিবাসনকে উপস্থাপন করা হলে তাদের মধ্যে সংশয় বাড়ছে।

 

 

WARNING: Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.

 

[প্রথমপাতা]