|
শত্রুর মোকাবেলা করতে দলের সবাই ঐক্যবদ্ধ হোনঃ জাপানে শোক দিবসের সভায় শেখ
হাসিনা

কমিউনিটি রিপোর্ট ।।
১৫ই
আগষ্ট শোক দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাপান, রোববার ৯ আগষ্ট
টোকিওর একটি চারতারকা হোটেলে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে
ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
রেমব্র্যান্ট হোটেল টোকিও
মাচিদার একটি বলরুমে আয়োজিত সভাটি শেষ পর্যন্ত একটি বিশাল শোডাউনে পরিণত
হয়। বিকেল ৪টায় মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগেই মিছিলের পর মিছিল এসে সমাবেশস্থলে
জড় হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে তা রূপ নেয় ঢাকার পল্টন ময়দানে। শ্লোগানে
শ্লোগানে প্রকম্পিত হতে থাকে চারিদিক।
বলরুমের একাংশে বঙ্গবন্ধুর
কর্মজীবনের উপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ছিলো
ছোটদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা। এরপর অনুষ্ঠানের আয়োজকদের পক্ষ থেকে
উপস্থিত অতিথিদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখা হয়।
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে
উড়ে আসা দক্ষিণ কোরিয়া আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন রনো তার
বক্তৃতায় উপস্থিত সকলকে তার আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ই
আগষ্টে ঘাতকদের বুলেটে নিহত সকলের প্রতি শোকজ্ঞাপন করেন।
তাদের বক্তব্যের পর নিহতদের জন্যে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা
করেন মোহাম্মাদ নাসির উদ্দিন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে
জাতীয় সংগীত পরিবেশনা ও নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর
বঙ্গবন্ধুর জীবনী ভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করেন শিপিং
কোম্পানি সেভেন সি'স এর প্রধান
মিয়োশি কাজুহিরো।
সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে টেলিফোনে সভায় যুক্ত হন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
তার গলার আওয়াজ পেয়ে নেতা-কর্মীরা আবেগে-শ্লোগানে ফেটে পড়েন। মুহুর্মুহু
শ্লোগানের মধ্যে শেখ হাসিনা তার বক্তব্য শুরু করেন।
তিনি
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পঁচাত্তরের ১৫ই আগষ্টে নিহতদের প্রতি গভীর
শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন জাপান বাংলাদেশের আন্তরিক বন্ধু, উন্নয়নের
অংশীদার। মহান মুক্তিযুদ্ধে জাপান সরকারের পাশাপাশি জাপানি শিশুরাও
বাংলাদেশের দুঃস্থ শিশুদের জন্যে অর্থ সংগ্রহ করেছিলো - সে কথাও স্মরণ
করেন। শেখ হাসিনা বলেন মেট্রোরেলের মত বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্টে জাপানিদের
সহায়তা বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।
তিনি
হোলি আর্টিজেনে জঙ্গী হামলায় নিহত জাপানিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন
করেন।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমান সারা জীবন জেল খেটেছেন বাঙ্গালীদের পরাধীনতার দাসত্ব
থেকে মুক্তির জন্যে, আর সেই বাঙ্গালীদের হাতেই তাকে জীবন দিতে হয়েছে। রেহাই
পায়নি তার ৮ বছরের শিশু সন্তানটিও, ঘাতকের বুলেট থেকে রেহাই পায়নি
মাতৃগর্ভে থাকা অনাগত শিশুটিও।
তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশে
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
অজস্র নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, বেহিসাব আওয়ামী লীগ
নেতাকর্মীদের কারাগারে বন্দী করা হয়েছে। জেলখানায় তাদেরকে খাবার দেওয়া
হয়না, পানি দেওয়া হয় না বা দিলে পানের অযোগ্য ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি
দেওয়া হয়। হত্যা করতে এসে না পেয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীদের মা, বোন, স্ত্রীদের
হত্যা ও ধর্ষণের মত নারকীয় অপরাধ সংঘটন করা হচ্ছে। এগুলোর কোন বিচার নেই।
শেখ হাসিনা বলেন দেশের অটিস্টিক শিশুদের বিশেষ
হাসপাতালের জন্যে ১১ কাঠা জমি বরাদ্দ নিয়েছিলাম আমি ও আমার মেয়ে পুতুল।
সেটার জন্যে তাবেদারী আদালত ৩২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে, অথচ এই মামলার কোনও
কাগজপত্র আমরা পাইনি। এমনকি তিনবারের বৃটিশ এমপি টিউলিপ যার নামে কোনও জমি
দেওয়া হয়নি তার বিরুদ্ধেও মামলা করেছে যে ও নাকি প্রভাব সৃষ্টি করেছে। তাও
কিভাবে, আমি তার খালা আমাকে সরাসরি না বলে সে প্রধানমন্ত্রী অফিসের একজনকে
বলেছে -সেই লোক আবার বলেছে আরেকজনকে আর সেই দ্বিতীয় ব্যক্তি নাকি আমাকে
বলেছে। বিশ্বের ইতিহাসে এমন ন্যাক্কারজনক ষড়যন্ত্রের নিদর্শন বিরল।
তিনি দেশ ও প্রবাসের সকল
নেতাকর্মীদের এক হয়ে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলার প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান
জানান।
এবার জাপানের শোক দিবসের আয়োজনটি ছিলো অন্য যে
কোনও সময়ের চেয়ে ব্যতিক্রম। সবাই নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একই কাতারে
সমবেত হন। পূর্বানুমান ৬০০/৭০০ মানুষ থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রায় হাজার
মানুষের সমাবেশে পরিণত হয়। উত্তরের ইয়ামাগাতা প্রিফেকচার থেকে শুরু করে
দক্ষিণের ওসাকা, নাগোয়া সহ সারা জাপানের বিভিন্ন স্থান থেকে আওয়ামী লীগ
নেতাকর্মীদের ঢল নেমে যায় অনুষ্ঠানস্থলে। জাপানে ইতিপূর্বে বাংলাদেশীদের
এতো বিশাল রাজনৈতিক সমাবেশ আর দেখা যায়নি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার
দায়িত্ব পালন করেন কাওসার হাসান লাইজু।
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে জাপানিদের অংশগ্রহণও ছিলো
দেখার মত। প্রায় অর্ধশত জাপানি অতিথি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
WARNING:
Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content
is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to
legal action.
[প্রথমপাতা]
|