|
উত্তরণ’-এর ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২০২৬ উদ্যাপন

কমিউনিটি নিউজ ।।
জাপান প্রবাসী
বাংলাদেশিদের পরিচিত ও প্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘উত্তরণ বাংলাদেশ কালচারাল
গ্রুপ, জাপান’ উদ্যাপন করেছে ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে ২৫
অক্টোবর, রোববার টোকিওর আদাচি ওয়ার্ড অফিস হলে আয়োজন করা হয় এক সাংস্কৃতিক
অনুষ্ঠান।
এবারের আয়োজনে প্রধান অতিথি কিংবা বিশেষ অতিথি
হিসেবে কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আয়োজকদের ভাষ্য, “আমাদের আগত
দর্শক-শ্রোতারাই আমাদের সম্মানিত অতিথি।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে
আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে
উত্তরণের লিডার কামরুদ্দিন হোসেইন পাপ্পু স্বাগত বক্তব্য দেন। প্রতিকূল
আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট পর অনুষ্ঠান শুরু হয়। যথাসময়ে
অনুষ্ঠান শুরু ও শেষ করার ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত উত্তরণের ক্ষেত্রে এই
বিলম্ব ছিল ব্যতিক্রম।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনায়
শিশুশিল্পী আজমীর নৃত্য এবং মৌটুসি দত্তের কণ্ঠে পাহাড়ি গান দর্শকদের
উপভোগের সুযোগ করে দেয়। এদিকে এবারের অনুষ্ঠানে নিয়াজ আহমেদ জুয়েলের
প্রাণবন্ত উপস্থাপনা অনুপস্থিত ছিল। মামুন, মৌ, গুলশান সাদ্ধি আহমেদ,
ওয়াতানাবে বাবু ও নাশরাহ আহমেদসহ পরিচিত কয়েকজন শিল্পীর অনুপস্থিতিও
দর্শক-শ্রোতারা অনুভব করেছেন।
তবে ৩৮তম
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন প্রত্যাশিত প্রাণবন্ততা অর্জন করতে পারেনি বলে
মনে হয়েছে। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় কিছুটা অগোছালো ভাবও লক্ষ করা গেছে।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন হিসেবে উত্তরণের এবারের আয়োজন আরও গোছানো ও
আকর্ষণীয় হতে পারত—এমন প্রত্যাশা ছিল অনেকের।
অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য
দিক ছিল তৃতীয় প্রজন্মের অংশগ্রহণ। উত্তরণের জ্যেষ্ঠ সদস্য যেরোম গোমেজের
দৌহিত্র অর্ক গোমেজ তার মা তুলি গোমেজের সঙ্গে দ্বৈত সংগীত পরিবেশন করে।
প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের এই অংশগ্রহণ বাংলা সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা
রক্ষার ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক।
৩৮তম প্রতিষ্ঠা
বার্ষিকী কে স্বরনীয় করে রাখার জন্য উত্তরণ একটি ‘স্বরনিকা’ বের করে। ৪৪
পৃষ্ঠার স্বরনিকাটিতে লিডার, ম্যানেজার এর বক্তব্য, বিভিন্ন কবিতা ,
বিভিন্ন কার্যক্রম এবং বিজ্ঞাপন স্থান পেলেও কোথাও সম্পাদকীয় বা সম্পাদকের
নামটি খুজে পাওয়া যায়নি। এটা কি অনিচ্ছাকৃত ভুল? নাকি, ইচ্ছাকৃত নতুনত্ব?
বোঝার ক্ষমতা নেই ।
উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে
মাত্র নয়জন সংস্কৃতিপ্রেমী সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে উত্তরণ। বর্তমানে
সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা ৪০ এর অধিক। জাপানের মতো ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির দেশে
প্রবাসজীবনের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ৩৮ বছর ধরে বাংলা সংস্কৃতির চর্চা
অব্যাহত রাখা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় অর্জন।
তবে দীর্ঘ পথচলার এই
অর্জনকে আরও সমৃদ্ধ করতে আয়োজনের মান, পরিবেশনা ও উপস্থাপনায় নতুনত্ব এবং
শৃঙ্খলা বজায় রাখার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষার
পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়েই উত্তরণ তার আগামী
দিনের পথচলাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে পারে।
WARNING:
Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content
is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to
legal action.
[প্রথমপাতা]
|