|   প্রথমপাতা  |  প্রকাশের তারিখঃ Thursday, October 19, 2023 |

 

 

 

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

 

 

রাহমান মনি:                                          

 

 

সহজ কথা , যায়না বলা সহজে

 

 

 

“অর্থ ব্যয়, শ্রম, মেধা, এবং ভালবাসার সমন্বয়ে প্রবাসে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা যে কি পরিমান বিড়ম্বনার শিকার হ’তে হয় তা কেবলমাত্র আয়োজকরাই জানেন”। বহুল প্রচলিত এই কথাটি মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে প্রবাসীদেরই একটি আয়োজনে । বিভিন্ন সংগঠনের কতিপয় কিছু সংখ্যক তথাকথিত আয়োজক বনে যাওয়া উচ্ছৃঙ্খল দর্শকদের কারনে এই আশংকা ।

বলছিলাম ১৫ অক্টোবর টোকিওর অইয়ামা গ্রীন হলে আয়োজিত প্রবাসীদের প্রিয় বাংলাদেশীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন “উত্তরণ” এর ৩৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন’র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা ।

উত্তরণ, করোনা মহামারির কারনে তিন বছর পর তাদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন উপলক্ষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে । অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাস , সর্বস্তরের প্রবাসী , স্থানীয় জাপানিজ সহ অন্যান্য দেশের অতিথিবৃন্দ উত্তরণের অনুষ্ঠান উপভোগ করার জন্য অইয়ামা গ্রীন হলে সমবেত হন ।

উত্তরণ , যথা সময়ে না হলেও যথারীতি অনুষ্ঠান শুরু করে। কিন্তু কিছু সংখ্যক লোকের সরব উপস্থিতি জানান দেয়ার কারণে নীরব শ্রোতাদের শ্রবণে বিঘ্ন ঘটে । সরব উপস্থিতি এক পর্যায়ে মঞ্চে দায়িত্ব পালনরত বাদকদলের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়। বিঘ্ন ঘটায় পারফর্মারদের মনোযোগেও ।

বার বার অনুরোধ সরব উপস্থিতিদের কর্ণকুহোরে প্রবেশ করাতে ব্যর্থ হয়।

প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক যে, এই সরব উপস্থিতি জানান দেয়া লোকগুলো কে বা কারা ?

বলতে দ্বিধা নেই এরা প্রবাসী সমাজ দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। এদের কেহ কেহ বিভিন্ন সংগঠনের সর্বোচ্চ পদে আসীন , কেহ দীর্ঘদিন দখল করে রাখা কোন সংগঠনের অসাধারণ সম্পাদক, কেহবা বিভিন্ন সংগঠনের ভাইটাল (?)পোষ্ট এর পদাধিকারী । সর্ব ক্ষেত্রেই তারা ধরাকে সরা জ্ঞান মনে করে । স্থান কাল পাত্র ভেদ বুঝতে চায় না ।

রাজনৈতিক নেতারা (?) এই সুযোগে কর্মী সমাবেশ সেড়ে নিতে ব্যস্ত থাকেন অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ অবধি । অনুষ্ঠানস্থলে যে অন্যান্য শ্রোতা দর্শক রয়েছেন , তারা অনুষ্ঠান উপভোগ করার জন্য এসেছেন এবং নেতা বনে যাওয়া তথাকথিতদের জন্য তাদের অনুষ্ঠান উপভোগে ছন্দপতন ঘটছে, এই ব্যপারে তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।

আর মহিলারা তো গেট-টুগেদার পার্টি মনে করে খোশগল্পে মেতে উঠেন। উত্তরণ এতোগুলি মাইক ব্যবহার করেও যে সাউন্ড তৈরি করতে পারেনি , মাত্র কয়েক জনে তার চেয়েও ঢের বেশী আওয়াজ তৈরি করতে পেরেছেন, হউক না তা শ্রুতিকটু। কিন্তু এতে করে যে তারা আয়োজক এবং দর্শকদের বিরক্তির কারন, তা তারা ‘ডোন্ট মাইন্ড’ মনে করছেন। আয়োজকদের কাছ থেকে বার বার অনুরোধ সত্বেও কোন কর্ণপাত করা হয়নি ।

শুধুই কি তাই! অনুষ্ঠানে সেলফি তোলা, নিজস্ব ক্যামেরাম্যান নিয়ে একই স্থানে এবং একই পোজে একাধিক ছবি তুলেও যাদের মন ভরেনা, কয়টি ছবি তুললে মন ভরবে তা তারা নিজেরাও জানেনা। তবে, আমার জানার খুব শখ । তাও আবার ষ্টেজ এর সামনে । ষ্টেজকে কেন্দ্র করে সবার-ই ছবি তোলার ইচ্ছা থাকে। তাই, নিজের ছবি তোলা শেষ করে অন্যকে সুযোগ দেয়াটাই স্বাভাবিক ম্যানার । কিন্তু একাধিক ছবি উঠানোর পরও যেনো মন ভরে না।

এরপর রয়েছে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো নিয়ে । আরে ভাই/বোনরা, আপনার শুভেচ্ছা জানানো শেষ হলে আপনি নেমে যান, অন্যকে সুযোগ করে দিন। আপনার যেমন ছবি তোলার খায়েস রয়েছে, এমন ইচ্ছা তো অন্যদেরও থাকতে পারে । তাদের ছবি তোলার সময় আপনার ছবি কেন তার ছবিতে স্থান পাবে ? নুনতম এই সেন্স টুকুও কি কাজ করে না?

এই তো গেল অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ের কথা ।

অনুষ্ঠান শেষ হলেও তাদের কাছে যেন “শেষ হইয়াও হয়নি শেষ”। তাই, শেষ হওয়ার পরও অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করতে তাদের অনীহা।

প্রথমেই বলেছি, সংগঠন প্রধান, রাজনৈতিক দলের প্রধান, বিভিন্ন সংগঠনের ভাইটাল পোষ্ট অধিকারীগণের অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে অতিকথনে অনুষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটে । এইসব ব্যক্তিবর্গও কিন্তু বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন। কাজেই তারাও জানেন হলগুলো ব্যবহারে একটি নীতিমালা অনুস্মরণ করতে হয়, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, হল পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে যথা সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দিতে হয় ।

এই পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কিছুটা কাজ করতে হয় যা কেবলমাত্র সকলে হল ত্যাগ করার পরই সম্ভব। কিন্তু কেহই হল ছাড়তে রাজী নয়। গল্প গুজবে মেতে ওঠে। আর তাদের এই গল্পগুজব যে অন্যের বিড়ম্বনার কারন হ’তে পারে সেই দিকে তাদের নজর কম ।

১৫ অক্টোবরের অনুষ্ঠান সফল করতে উত্তরণের প্রতিটি সদস্যকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে। নাবা খাবা , ঘুম যথা নিয়মে কারোরই হয়নি। অনুষ্ঠান শেষে সবার মধ্যে একটা ক্লান্তিভাব চলে আসে । পরেরদিন আবার কর্মদিবস । বাড়ী ফেরার একটা তাড়া থাকে । কিন্তু হল বুঝিয়ে না দেয়া পর্যন্ত তারা কেহই বাড়ী ফিরতে পারেননা ।

এরপর রয়েছে পরবর্তীতে হল পাওয়ার ঝুঁকি ।

তাই , সময় এসেছে প্রবাসীদের কিছু সিদ্ধান্ত নেয়ার। প্রয়োজনে নীতিমালা তৈরি করার ।

সব শেষে বলতে চাই , আসুন আমরা সচেতন হই । নিজেদের সন্মান নিজেরাই রক্ষা করি ।

নীতিমালা মেনে অনুষ্ঠানে যোগদান নিশ্চয়ই মর্যাদা সম্পন্ন নয় ।

rahmanmoni@gmail.com

 

 

ARNING: Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action. 

[প্রথমপাতা]

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আরও দেখুন.....

.

আরও দেখুন.....