প্রথমপাতা  

সাম্প্রতিক সংবাদ 

 স্বদেশ

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ কমিউনিটি

লাইফ স্টাইল

 এক্সক্লুসিভ

বিনোদন

স্বাস্থ্য

বর্তমানের কথামালা

 শিল্প-সাহিত্য

 প্রবাসপঞ্জী 

আর্কাইভ

যোগাযোগ

 

 

 

 

 

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

 

 

সাম্প্রদায়িকতার আগুনে জ্বলছে স্বদেশ

 

 

 

মোঃ মহিউদ্দিন মজুমদার মাসুম
সাইতামা,জাপান।


দাউ দাউ আগুনে জ্বলছে স্বদেশ, পুড়ছে পূজামন্ডপ, হিন্দুদের বাড়ীঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ হৃদয় মন্দির । এই লেলিহান আগুনে আলুপোড়া দিয়ে খেতে ইচ্ছুক হায়নারা সব একজোট-কেউবা নিরবে নিভৃতে, কেউবা সরবে । আমরা ব্যস্ত পারষ্পরিক দোষারোপে, টকশোর তর্কযুদ্ধে মহারথি নেতারা ব্যস্ত প্রতিপক্ষ ঘায়েলে কুতর্কীয় তর্কবাণে, এতেই একদিন চাপাপরে যাবে প্রকৃত হায়নাদের মুখ এবং মুখোশ, মহাকালের পরিক্রমায় এই হায়নারা ঘটাবে আবারো নতুন কোন কুমিল্লা কান্ড, দেখবো আমরা নতুন পুরোনের মিশেলে সেই কূটতর্ক ।

কেন কারা এসব ঘটায়, এতে লাভালাভটা কার । লাভালাভের হিসাবটা কারো শুধুই ইহকালিন সম্পদ দখল বা রাজনীতির ক্ষমতা, কারো লাভালাভের হিসাবটা ইহকাল এবং পরকালের মিশেলে । এই আগুন কী কখনোই নিভবে না ? নিভানো বড়ই কঠিন, জ্বালানো সহজ ।

কেন জ্বালানো সহজ, নিভানো কঠিন, তাই বলছি । কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড়ের মন্দিরে দেবতার কোলে বা পায়ের উপর পবিত্র কুরআন রেখে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়েছে কারা ? হিন্দু নাকি মুসলমান নাকি অন্য কোন মতলববাজ ? সবাই স্বীকার করছেন, কোন মুসলমান এই কাজ করবেনা, আর বাংলাদেশের আর্থসামাজিক রাজনৈতিক বিবেচনায় সংখ্যালঘু হিন্দুরা গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহুতির মত একাজ করার হিম্মত রাখেনা । অর্থাৎ হিন্দু বা মুসলমান কেউ একাজ করেননি, সহজ উত্তর করেছে মতলববাজরা । মতলববাজদের জন্য ধর্ম পরিচয়টা বিবেচ্য বিযয় নয়, মতলব হাসিল করাটাই বিবেচ্য । মতলবববাজদের এই কান্ডে কড়ায়গন্ডায় মাশুল গুনছেন হিন্দু সম্প্রদায় । আর একজনের অন্যায় বা অপরাধে পুরো সম্প্রদায়ের উপর হামলা কী ইসলাম ধর্ম সমর্থন করে, নিশ্চয় না । অন্য কোন জাতিধর্ম বা সভ্য-অসভ্য সমাজ রাষ্ট্র তা সমর্থন করে, নিশ্চয় না । অথচ ঘটছে হরহামেশা, রহস্যটা এখানেই ।

একটু ভাবুন, আমরা নিশ্চিত হলাম, হিন্দু বা মুসলমান নয়, ধর্ম অবমাননা করেছে মতলববাজরা, আমরা কি মতলববাজদের উপর হামলা করেছি । না আমরা স্বদম্ভে জেহাদি জোশে হামলে পড়েছি অসহায় নিরপরাধ হিন্দু মানুষগুলোর ওপর । কারনটা কী, আগেই বলেছি, বিষয়টা লাভালাভের-আর তা ইহকালিন বা পরকালিন বা দুটোই হতে পারে । মসজিদ থেকে নামাজের পর হুজুর বা নামাজীদের নেতৃত্বের হামলাগুলো কী ধর্মীয় ভাবে গ্রহনযোগ্য, এটা কী ইসলাম সমর্থন করে, কোন হুজুরকে তো দেখছিনা একাজে বাঁধা দিতে বা মিছিল নিয়ে নিরপরাধ হিন্দুদের মন্দির, বাড়ীঘর বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষায় এগিয়ে আসতে । এমনকি সমাজের বিবেকবান মানুষরাও নীরব দর্শক হয়ে ছিলেন, কোন প্রতিরোধ গড়ে তুলেননি । তাছাড়া আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীও যথাযথ ভূমিকা রাখেনি । আমাদের নিশ্চয় স্মরণ আছে রামুর হামলার সময় হামলাকারীদের সমাবেশে থানার ওসি বলেছিলেন-আমি ইউনিফর্ম পড়া না থাকলে আপনাদের সাথে শরীক হতাম । রামু থেকে কুমিল্লা কান্ড প্রত্যেকটি সাম্প্রদায়িক হামলায় স্থানীয় সাম্প্রদায়িক মোল্লাদের সাথে আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি-জামাতসহ অন্যান্য দলীয় নেতাকর্মীরা একাট্টা হয়ে এই হামলা এবং লুটপাটের অংশীদার হয়েছেন । এমনকি অনেকে এই হামলায় অংশ নিতে না পারলেও পাশ দিয়ে চলা জেহাদী জোশের এই ধরনের মিছিলকে বাঁধা নয়, বরং হাততালি বা নীরব সমর্থন দিয়ে সওয়াব বা কোরআন তথা ইসলামের সন্মান রক্ষার চেষ্টা করেন ।

প্রশ্ন হচ্ছে কেন সমাজ-রাষ্ট্রের এই অবস্থা ? ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশ কী এসবকে অনুমোদন দেয় ? কেন আমরা অতীতের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহারনকে জলাঞ্জলি দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ঝুঁকছি ? এই বাস্তবতার কারন কী ? সহজেই অনুমেয় আমাদের চিন্তাচেতনা, মনণ জগৎ এবং বিশ্বাসে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন, আর তাতে ভূমিকা রেখেছেন আমাদের সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ এবং ধর্মীয় রাজনীতির মোল্লা এবং হাল আমলের ওয়াজিন সমাজ ।

যে শিশুটি তার পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বড় হচ্ছে শুধুমাত্র তার ধর্মের শ্রেষ্টত্ব এবং অন্য ধর্মকে ঘৃণা চর্চার মধ্য দিয়ে, সেই অন্য ধর্মালম্বীকে অবজ্ঞা অশ্রদ্ধা দেখাবে, এটাই স্বাভাবিক । তাছাড়া এক শ্রেনীর ওয়াজিনরা তাদের ওয়াজ মাহফিলে প্রতিনিয়ত অন্য ধর্মালম্বীদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ওয়াজ করেন, হিংসা বিদ্বেষ এবং ঘৃনা ছড়িয়ে দিচ্ছেন । শুধু তাই নয় সরাসরিভাবে দেবদেবীর মূর্তি বা প্রতিমা ভাংগা এবং হিন্দুর সম্পত্তি জোরদখলী ভোগের পক্ষের ওয়াজ শুনে শুনে যে শিশুটি আজ যুবকে পরিণত হয়েছে, তার কাছে তার দল আওয়ামীলীগ বিএনপির সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে তথাকথিত এই নেক কাজের মনণ জগৎকে ঠেকাবেন কীভাবে ? মুফতি আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ ওয়াজে বলেছেন-মূর্তি গড়তে নয় ভাংতে এসেছি, তাছাড়া মাওলানা এনায়েতউল্লাহ আব্বাসী এবং মাওলানা আজহারিসহ অন্যান্য হুজুরদের এই ধরনের ওয়াজ ইউটিউবে সয়লাব হয়ে আছে ।

আর রাজনীতিকরা রাষ্ট্রীয় ভাবে ধর্মকে টেনে এনে সস্তা জনপ্রিয়তা এবং ভোট বানিজ্যের হাতিয়ার বানিয়েছেন । যে দুজন সামরিক সরকার পঞ্চম এবং অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে বিসমিল্লাহ এবং রাষ্ট্রীয় ধর্ম ইসলাম জুড়ে দিয়েছেন, তারা দুজন ব্যাক্তি জীবনে কতটুকু ইসলাম চর্চা করতেন, তা দেশ-জাতি ভালোই জানেন । তৎকালিন সময়ের অবৈধ ক্ষমতাকে জায়েজ করতে ধর্মের এই রাজনৈতিক ব্যবহারের কারনে অন্য ধর্মালম্বীরা ৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রীয় অংশগ্রন করলেও এখন সে বা তার উত্তরাধীকাররা কী এদেশকে তাদের দেশ ভাববার অবকাশ আছে ? দেশটা শুধুই মুসলমানদের, অন্যরা সব আশ্রিত বৈ কিছুই নয় । এই মনণ জগৎ বা এই নিগুঢ় বাস্তবতার এই দেশে ঘটবে এসব, এটাই কঠিন বাস্তবতা ।

যাহোক, আমি নৈরাশ্যবাদী নই । বুক বাঁধি এই আশায়, গুটি কয়েক সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী হিংস্র দানবকে ঠেকাতে এগিয়ে আসবেন সমাজের সকল বুদ্ধিজীবি, সুশীল সমাজ এবং বিবেকবান নাগরিকরা, রক্ষিত হবে হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য, কেটে যাবে ঘোর অমানিশা, জেগে উঠবে যুব সমাজ, ফিরে আসবে ৭১ এর চেতনায় উজ্জীবিত ৭২ এর সংবিধানের সেন্টিমেন্টের বাংলাদেশ ।

 

 

WARNING: Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action. 

 

[প্রথমপাতা]

 

 

লেখকের আগের লেখাঃ